শুভ জন্মদিন রাজকুমার হিরানী

শুভ জন্মদিন রাজকুমার হিরানী

মানুষটার জন্ম হয়েছিলো ভারতের নাগপুরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা সুরেশ হিরানী নাগপুরে একটি টাইপিং ইন্সটিটিউট পরিচালনা করতেন। আট – দশটা মানুষের মতোন এই মানুষটার স্বপ্ন ছিলো বড়ো হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবেন এবং পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবেন ।

কিন্তু, তৎকালীন সময়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হওয়ার জন্য যে মার্কসের প্রয়োজন তার চেয়ে কয়েক মার্কস তাঁর কম ছিলো বিধায় তাঁর স্বপ্ন আর বাস্তবে রুপ নিতে পারেনি ।

বাধ্য হয়েই সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড ছেড়ে চলে গেলেন কমার্সে । আশেপাশের বন্ধুরা সবাই – তোর জীবন পুরা ব্যর্থ। সায়েন্সে পড়েও ইঞ্জিনিয়ার হতে পারলি না ???ইত্যাদি বলে উপহাস করতে লাগলো। মানুষটার কাছে তখন এই উপহাসের কোনো জবাব ছিলো না। শুধুই নির্বাক হয়ে থাকতেন।

বাবার নির্দেশে ভর্তি হলেন সিএ (CA- Chartered Account) তে । কিন্তু, সিএ পড়তে এসে দেখলেন – সংখ্যার হিসাব- নিকাশ কিছুই তাঁর মাথায় ঢুকছে না। তাই পরীক্ষার আগের দিন ভয়ে ভয়ে এসে বাবা বললেন – বাবা আমি কাল পরীক্ষা দিবো না “কমার্সের কোনো কিছুই আমার মাথায় ঢুবছে না” ।
ছেলের এই কথা শুনে বাবা মোটেও রাগ করলেন না বরং বললেন – পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা না থাকলে দিও না। কাল থেকে আমাকে কাজে সাহায্য করো। ছেলে মহাখুশীতে রাজি হয়ে গেলেন। বাবাকে টাইপরাইটিং ইন্সটিটিউটে সাহায্য করার পর হাতে থাকতো অফুরন্ত সময়।

কলেজে কিছু বন্ধুর সাথে পরিচয় ঘটলো যারা থিয়েটার করতো। সেসব বন্ধুদের সাথে ভর্তি হলেন থিয়েটারে। সেই থিয়েটারেই খুঁজে পেলেন তাঁর সুখের ঠিকানা।
তারপর বন্ধুরা মিলে খুলে ফেললেন একটি থিয়েটার গ্রুপ। নাম দিলেন আওয়াজ।

থিয়েটারের প্রতি ছেলের মারাত্নক আগ্রহ দেখে বাবা ছেলেকে পুনে শহরের Film and Television Institute of India ( FTII) তে ভর্তি হওয়ার জন্য বলেন। FTII তে প্রথমবার এপ্লাই করেন ডিরেক্টর ফ্যাকাল্টিতে। কিন্তু, তখন ডিরেক্টর পদে ৮ টি সিটের বিপরীতে ছিল হাজার হাজার ছাএ। তাই ডিরেক্টর পদে চান্স পেলেন না। পরের বছর তিনি এপ্লাই করলেন এডিটিং ফ্যাকাল্টিতে কারণ, তখন এডিটিং এ খুব কম ছাএই এপ্লাই করতো । সেবার চান্সও হয়ে গেলো এবং চলে গেলেন FTII এ এডিটিং এর উপর পড়াশোনা করতে ।

পড়াশোনা শেষ করেই মুম্বাই শহরে এসে কাজ নিলেন একটি ছোটখাটো এডিটিং এ্যাজেন্সিতে। বিভিন্ন রকমের ফিল্ম এডিটি করা শুরু করলেন কিন্তু তাঁর এডিটিং কৃত ফিল্ম গুলো নানান কারণে রিলিজ হতো না।

ফলে তিনি টাকাও পেতেন না । তাই ফিল্ম এডিটিং ছেড়ে চলে গেলেন এ্যাড ফিল্ম এডিটিং এ। ভালোই উপার্জন করতে লাগলেন। এরই মধ্যে ফেভিকল এর একটি এ্যাডে অভিনয় করলেন।

মানুষটার সাথে বলিউডের আরেক ট্যালেন্টেড পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালিও
FTII তে এডিটিং পদে ভর্তি হয়েছিলো। এই বনসালিই তাকে পরিচয় করিয়ে দেন পরিচালক ও প্রযোজক বিধুবিনোদ চোপড়ার সাথে। বিধুর ১৯৪২ সালের  “অ্যা লাভ স্টোরি” মুভির প্রোমো বানালেন তিনি। পরবর্তীতে  মিশন কাশ্মির মুভির এডিটিং করলেন তিনি।

তারপর নিজে একটি মু্ভির স্কিপ্ট তৈরী করলেন। মুভির স্কিপ্ট বিধুবিনোদ চোপড়ার এতোটাই পছন্দ হলেন যে – তিনি নিজেই মুভির প্রোডিউসার হয়ে গেলেন।

মুভিটির জন্য কাস্টিং করলেন শাহরুখ খান কে
কিন্তু, শুটিং শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে “শক্তি দ্যা পাওয়ার” মুভিতে ছোটখাটো একটা চরিএে অভিনয় করতে গিয়ে কাঁধে ব্যথা পেয়ে মারাত্নক আহত হন শাহরুখ। তাই সঙ্গত কারণেই শাহরুখ মুভিটি করতে পারলো না। নতুন পরিচালক মানুষটি যেনো চোখে অন্ধকার দেখতে লাগলেন
পরে এই চরিএে কস্টিং করলেন সঞ্জয় দত্তকে।

অবশেষে ২০০৩ সালে মানুষটির পরিচালিত প্রথম মুভি “মুন্নাভাই এমবিবিএস” রিলিজ পেলো। বলিউডে অন্যরকম একটি মুভি তৈরী হলো। সঞ্জয় দত্তের ক্যারিয়ার যেনো নতুনভাবে শুরু হলো এই মুভির মাধ্যমে। আর আরশাদ ওয়ার্সি  প্রথমবারের মতোন পেলেন দর্শক জনপ্রিয়তা এবং সার্কিট চরিএে অভিনয়ের জন্য পেলেন পার্শ্বচরিএের ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরুষ্কার

২০০৬ সালে মুক্তি পায় মুন্নাভাইয়ের সিকুয়েল
লাগে রাহো মুন্নাভাই
সেবছর মুভিটি ইন্ডিয়া থেকে অস্কারের জন্য প্রতিনিধিত্ব করেছিলো ।

এরপর তিন বছর বিরতির পর ২০০৯ সালে নির্মান কররেন ভারতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা মুভি “থ্রি ইডিয়টস”।

এই মুভি নিয়ে আর কী বলবো। এই মুভির ভালো লাগা নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা যাবে  তবুও যেনো শেষ হবে না।

জ্যাকি চ্যান কে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিলো একটি হিন্দি মুভির নাম বলার জন্য। তখন তিনি তাঁর উত্তরে বলেছিলেন থ্রি ইডিয়টস মুভির কথা।

২০১৪ সালে মুক্তি পায় তাঁর ৪র্থ মুভি পিকে
ধর্মীয় কুসংস্কার নিয়ে করা এই মুভিটিও যথারীতি বক্স অফিস কাঁপিয়েছে।

২০১৮ সালে করেন অনন্য এক বায়োগ্রাফি সিনেমা। আর এই বায়োগ্রাফি তিনি তৈরী করছেন সঞ্জয় দত্তের উপর। যা ভক্তদের মনে  সঞ্জয় দত্তের জন্য  এক অনন্য স্থান করে দেয়।

মানুষটা শিল্প এবং বানিজ্যি এই দু’টো বিষয়কেই সংমিলিত করে মুভি নির্মান করতে পারেন।
একদিকে তাঁর মুভি যেমন বক্স অফিসে কোটি কোটি টাকা আয় করে, ঠিক তেমনি সমালোচকদের প্রশংসাও কুঁড়িয়ে থাকে।

মানুষটির প্রথম মুভি রিলিজ হওয়া পর বলিউড ইন্ড্রাস্টির অনেকে বলেছেন – পুরো সিনেমার কাজ মুম্বাইতেই শেষ করলেন? কোন আইটেম সং নাই ক্যান? একটা গানের জন্যও তো বিদেশের লোকেশনে গেলেন না! সঞ্জয় এর মতো একশন হিরোকে কি বুঝে কমেডি রোলে নিলেন—???
এসব প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন – ভবিষ্যতের আমার কাজই হবে আপনাদের এসকল প্রশ্নের উত্তর!

আমরাও চাই আপনি কাজের মাধ্যমে আপনার নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করতে পারবেন।  বাংলা নিউজ টিমের পক্ষ থেকে অনেক শুভকামনা রইলো এই অনন্য মানুষটির জন্য ।

 

Share this post