চালু হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু ‘হংকং-ঝুহাই-ম্যাকাও ব্রিজ’

চালু হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু ‘হংকং-ঝুহাই-ম্যাকাও ব্রিজ’

সাগরের ওপর নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম ও ব্যয়বহুল সমুদ্র সেতু ‘হংকং-ঝুহাই-ম্যাকাও ব্রিজ’ মঙ্গলবার উদ্বোধন করেছে চীন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ৫৫ কিলোমিটার (৩৪ মাইল) দৈর্ঘ্য এ সেতুটির উদ্বোধন করেন।

সেতুটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সময় লেগেছে ৯ বছর।
এত ব্যয়ে বিশ্বের আর কোথাও কোনো সেতু নির্মিত হয়নি। ইংরেজি বর্ণমালা ‘ওয়াই’
আকৃতির মতো দেখতে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১১ সালে।

চীনের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান,
সেতু নির্মাণে যে পরিমাণ স্টিল ব্যবহৃত হয়েছে, তা দিয়ে অন্তত ৬০টি আইফেল টাওয়ার নির্মাণ করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ১৪টি দেশ থেকে
বিখ্যাত প্রকৌশলীদের নিয়ে ২০০৯ সালে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করে দেশটির সরকার ।

সেতুটি ব্যবহার করে হংকং থেকে ঝুহাই যেতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগবে ।
যেখানে আগে সময় লাগত ৩ ঘণ্টার বেশি ।
১২০ বছর কোনো মেরামত ছাড়া অনায়াসে ব্যবহার করা যাবে এই সেতু ।

সেতুটি দক্ষিণ চীনের ৫৬ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা , হংকং ও ম্যাকাওসহ ১১ টি শহর কে যুক্ত করেছে ।
এই এলাকায় প্রায় ৬৮ মিলিয়ন জনসংখ্যা রয়েছে ।

চীনের ম্যাকাও বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (এস এ আর) সরকারের তথ্য ব্যুরো জানিয়েছে ,
চালু হলে সেতুটি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। এই সেতু দিয়ে ম্যাকাও ও হংকংয়ের যাত্রী ও
যানবাহনগুলো সরাসরি এক অঞ্চল থেকে আরেকটিতে যাওয়া আসা করতে পারবে ।

চীনের ম্যাকাও বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (এস এ আর )জানায়,
সেতুটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ম্যাকাও ও ঝুহাইয়ের মধ্যে
কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য একটি যৌথ তদারকি এবং একবারের ছাড়পত্র নীতি অনুসরণ করা হবে।
নতুন এ কাস্টমস সিস্টেমের অধীনে পর্যটকদের এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে যেতে একবারই ছাড়পত্র দেখাতে হবে ।
এ প্রক্রিয়া হতে পারে অটোমেটিক বা সেমি অটোমেটিক বা ম্যানুয়াল ।

ব্যুরো আরও জানায় , পর্যটকদের জন্য দুই ধরনের সরকারি পরিবহন থাকবে।
একটি নিয়মিত বাস সার্ভিস এবং আরেকটি শাটল সার্ভিস ।
এক চেকপয়েন্ট থেকে আরেক চেকপয়েন্টে যাওয়া আসায় এ শাটল সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবে পর্যটকরা ।

Share this post