ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জের ধরে অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকা গ্রেফতার

ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জের ধরে অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকা গ্রেফতার

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমর্থনে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জের ধরে নুসরাত জাহান সোনিয়া  নামের অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকা কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা করে কলাপাড়া থানা পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার হওয়া  নুসরাত জাহান সোনিয়া  দক্ষিণ টিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা।তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নেছারাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

রোববার দক্ষিণ টিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কক্ষ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রেফতার করার পর কলাপাড়া জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে  পুলিশ ওই শিক্ষিকার সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে। কিন্তু গ্রেফতার শিক্ষিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে দুদিন তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন আদালত।

নুসরাত জাহান সোনিয়ার দেয়া স্ট্যাটাস টি

নুসরাত জাহান সোনিয়া  সারিকা তার ফেসবুক স্ট্যাটাস এ লিখেন-

একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পোস্টঃ
একটা দুশ্চিন্তা যে, আন্দোলনটা ছাত্রলীগ,শ্রমিকলীগ এবং পুলিশলীগ মিলে সাবোটাজ করতে পারে!!আন্দোলনে ইভটিজার এবং গুণ্ডাপাণ্ডা ঢুকানোর চেষ্টা হতে পারে।

তাই তোমরা যদি সতর্কতা অবলম্বন করো তবে তোমরা সফল হবে। আর তোমাদের সফল হতেই হবে নইলে গোটা বাংলাদেশ হেরে যাবে মাফিয়াতন্ত্র এবং ফ্যাসিবাদের কাছে।

তোমাদের যা করণীয় তা নিম্নরূপ-
১। অলয়েজ আইডি কার্ড ঝুলিয়ে রাখবা গলায়।
২। গ্রুপ করে রাস্তায় থাকবা, বিচ্ছিন্ন হবা না এবং যে যার ফাইটিং স্পট ত্যাগ করবা না কোনভাবেই। সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি পাবে যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশেপাশে যেন বহিরাগত বা ছদ্মবেশীদের সহজেই চিহ্নিত করা যায়।
৩। একজনকে পুলিশ পিকাপে তুললে বাকি ১০/১২জনও উঠে যাবা। আর বাকিরা পিকাপ ঘিরে রাখবা।
৪। মিনিমাম পঞ্চাশ জনের গ্রুপ করে একজায়গায় থাকবা আর গ্রুপে অপরিচিত কাউকে রাখবা না।
৫। যেখানে অবস্থান নিবা সেখানে রাস্তার পাশে ইট পাটকেল, গজারি লাঠি রেখে দিবা যেন হামলা হলে কাউন্টার দিতে পারো।
৬। হাসপাতালের হটলাইন নাম্বার সাথে রাখবা।
৭। পরিচিত সাংবাদিক থাকলে সাথে রাখবা।
৮। কোন ফ্রেন্ডকে সিভিল ড্রেসে একটু দূরে রাখবা সব ভিডিও করার জন্য।
৯। পুলিশ চেক করতে আসলে উল্টা পুলিশকে আগে চেক করবা এবং পুরাটা ভিডিও করে রাখবা।
১০। মেয়েরা মরিচের গুড়া ব্যাগে রাখবা যেন কেউ উত্যক্ত করতে আসলে মুখে মেরে দিতে পারো।

ছাত্র বন্ধুরা। তোমাদের সাথে শোষক এবং শোষকের পোষা কুত্তাদের লড়াই শুরু হয়ে গেছে। এটাও শ্রেণীসংগ্রামের অংশ। তাই এই লড়াই চরিত্রগত কারনেই সহিংস হবে।তাই সেভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখো।
মনে রাখবা, তোমাদের ভয়ের কিছু নাই। তোমাদের কেউ গুলি করার সাহস রাখে না। সরকার খুব ভালো করেই জানে যে ছাত্র হত্যা করে বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত কেউ গদিতে টিকে থাকতে পারে নাই।
এই পোস্টটি যে যার মতো করে মডিফাই বা এডিট করে নিজ নিজ টাইমলাইন থেকে পোস্ট করুন যেন সবাই সতর্কতা ও প্রস্তুতি ভালোভাবে নিয়ে নামতে পারে।

Share this post