ফের তাইজুলের ৫ উইকেট, ৩০৪ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে

ফের তাইজুলের ৫ উইকেট,  ৩০৪ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে

আবারো তাইজুল-মিরাজের ঘুর্ণিতে কুপোকাত জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংসে ৩০৪ রানে অলআউট মাসাকাদজার দল।

চোটের কারণে ব্যাট করতে পারবেন না টেন্ডাই চাতারা। ফলে ফলো অনে পরলো জিম্বাবুয়ে। ২১৮ রানে এগিয়ে থেকে তৃতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ। সিরিজে তৃতীয়বার পাঁচ উইকেট নেন তাইজুল। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবার।

আগের দিনের ১ উইকেটে ২৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিন খেলতে নামে জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান চারি ১০ এবং নাইটওয়াচম্যান ডোনাল্ড তিরিপানো শূন্য রান নিয়ে খেলা শুরু করেন।

শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বলিং করতে থাকেন বোলাররা। দিনের প্রথম সাফল্য টা আসে তাইজুলের হাত ধরে। তাইজুলের স্পিনে ঘায়েল হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিরিপানো।

অপর প্রান্তে থাকা ব্রায়ান চারি শুরুটা ধীরস্থির করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে হাত খোলেন তিনি। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালাতে লাগলেন। তুলে নেন ফিফটি। দারুণ এক ডেলিভেরিতে ৫৩ রান করা চারি কে থামান মিরাজ। মুমিনুল হকের তালুবন্দি করে জিম্বাবুয়ে ওপেনারকে ফেরান এ অফস্পিনার।

জিম্বাবুয়েওপেনার ফিরে গেলে ক্রিজে আসেন ইনফর্ম শন উইলিয়ামস। তবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ফের আঘাত হানেন তাইজুল। দুর্দান্ত স্পিনে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। খানিক বাদেই আবারো এ স্পিনারের শিকার হয়ে ফেরেন সিকান্দার রাজা। তিনিও সাজঘরের পথ ধরেন সোজা বোল্ড হয়ে।

কোণঠাসা হয়ে পড়া জিম্বাবুয়ে দলের হাল ধরতে
এরপর পিটার মুরকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ব্রেন্ডন টেইলর। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তারা।

টেইলর-মুর জুটি ছোটান রানের ফোয়ারা। কোনো কিছু দিয়েই যেন থামানো যাচ্ছিল না তাদের। ব্যর্থ হন স্ট্রাইক বোলাররা। অবশেষে মিডিয়াম পেসে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে মুরকে থামান পার্টটাইমার আরিফুল হক। ১১৪ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ৮৩ রান করা মুরকে ফিরতে হয় সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েই।

দুর্দান্ত খেলতে থাকা ব্রেন্ডন টেইলরের সঙ্গে গড়েন মহামূল্যবান ১৩৯ রানের জুটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের হয়ে ষষ্ঠ উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড রানের পার্টনারশিপ।

দিনের প্রথমার্ধে জিম্বাবুয়ে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়মিত বিরতিতে আসা যাওয়ার মাঝে থেকে যান ব্রেন্ডন টেইলর। নিজের পুরুটা দিয়েই লড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৮৭ বলে ৮ চারে তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি।

সেঞ্চুরি করার পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি তিনি।মিরাজের দুর্দান্ত এক ডেলিভেরিতে তাইজুলের এক অসাধারণ ক্যাচে তাকে ১১০ রানে ফিরতে হয়। অল্প ব্যবধানে ব্রেন্ডন মাভুতাকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষ শিবির কে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন এ অফস্পিনার।

কিছুক্ষণ পরেই রেজিস চাকাভাকে পঞ্চম শিকার বানিয়ে জিম্বাবুয়েকে ফলোঅনের শংকায় ফেলেন তাইজুল। এ নিয়ে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন তিনি।

সিলেট টেস্টে দুই ইনিংসে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন এ বাঁহাতি স্পিনার। প্রথম ইনিংসে ৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেন তিনি।

Share this post