তাহাজ্জুদের নামাজ কখন এবং কিভাবে পড়তে হয় ও এই নামাজ কত রাকাত?

তাহাজ্জুদের নামাজ কখন এবং কিভাবে পড়তে হয় ও এই নামাজ কত রাকাত?

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়মঃ সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর,যিনি নিজ বান্দাদের উপর নামাজ ফরজ করেছেন এবং তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য নামাজকে সহজ করেছেন।

আল্লাহর পছন্দনীয় বান্দা ও সত্যবাদীদের গুণাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো তারা তাহাজ্জুদ (শেষ রাতে নফল সালাত) আদায়কারী।
প্রথম দিকে রাসুল (সাঃ) সারারাত জেগে ইবাদত করতেন কিন্তু পরবর্তিতে রাতে এশার নামাজের পর রাতের কিছু অংশ ঘুমাতেন
এবং ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। প্রতি বারে দুই রাকাত করে চার, ছয়, আট, দশ বা বারো রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় যায়। অনান্য নামাজের মত যে কোনো সুরার সাথে পড়া যায়, তবে প্রতি রাকাতে সুরা এখলাস তিন বার পড়া ও একাকী নির্জনে তাহাজ্জুদ আদায় করা উত্তম।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময়ঃ
তাহাজ্জুদ সুন্নত নামাজ। আমাদের প্রিয় নবী রাসুল (সাঃ) এই নামাজ নিয়মিত আদায় করতেন।মধ্যরাতের পর এই নামাজ আদায় করতে হয়.আল্লাহ এর প্রিয় বান্দা আল্লাহকে খুশী করার জন্য তার ঘুম থেকে এই নামাজ আদায় করতে হয়।তাহাজ্জুদের নামাজে ঘুম থেকে উঠে পড়তে হয় এবং এটাই ভালো। কিন্তু যদি রাত জাগতে হয় , ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকে তবে ইশা সালাতের পর দু রাকআত সুন্নত ও বিতরের আগে তা পড়ে নেয়া জায়েয আছে।ফজরের আযানের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামায আদায় করা যাবে।

তাহাজ্জুদ নামাজের রাকআত সংখ্যাঃ
সর্ব নিম্ন দু রাকআত। আর সর্বোচ্চ ৮ রাকআত পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের ৮ রাকাত নামাজ আদায় করার পরে, বিতর ৩ রাকাত নামায পড়া। বেশিরভাগ সময় রাসুল (সাঃ) তাহাজ্জুদের নামাজ ৮ রাকাত পরতেন এবং এর পর বিতরের নামাজ পরে মোট ১১রাকাত পূর্ণ করতেন।

১। অতঃপর দু’রাকাত করে, তাহাজ্জুদের নামাজ সাত রাকাত পড়তে চাইলে দু’সালামে চার রাকাত পড়ে তিন রাকাত বিতর পড়বে । (বুখারী, মেশকাত ১০৬ পৃঃ)

২। তাহাজ্জুদ নামাজ বিতরসহ ১৩, ১১, ৯ কিংবা ৭ রাকাত পড়া যায়। (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ১০৬ পৃঃ)

তাহাজ্জুদের গুরুত্ব ও ফযীলতঃ
ফরয নামাজের পর অন্যান্য সুন্নাত ও নফল সব নামাযের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ফযীলত সবচেয়ে বেশী (আহমাদ, মেশকাত ১১০ পৃঃ)

রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে এবং সে তার স্ত্রীকেও ঘুম থেকে জাগিয়ে নামাজ পড়ায় এমনকি সে যদি জেগে না উঠে, তবে তার মুখে খানিকটা পানি ছিটিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষণ করে থাকেন ।

অনুরুপ কোন মহিলা যদি রাত্রিকালে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে এবং সে তার স্বামীকে নামাযের জন্য জাগায় এমনকি স্বামী না জাগলে স্ত্রী তার মুখে পানি ছিটিয়ে তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতিও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকে (আবু দাউদ, নাসায়ী, মেশকাত ১০৯ পৃঃ)

রাসুল (সাঃ) বলেন, আমাদের প্রভু পরওয়ারদিগার তাবারাকা ওয়া তা’আলা প্রত্যেক রাত্রে দুনিয়ার আসমানে (যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়) নেমে আসেন যখন রাত্রের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকে । অতঃপর তিনি বলেন, তোমাদের কে আমাকে ডাকবে! আমি তার ডাকে সাড়া দেব । কে আমার কাছে কিছু চাইবে আমি তাকে তা দেব, কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব (মুসলিম, মেশকাত ১০৯ পৃঃ)

Share this post