তামিম নৈপুণ্যে বিপিএলে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

তামিম নৈপুণ্যে বিপিএলে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

তামিম নৈপুণ্যে বিপিএলের ৬ষ্ঠ আসরের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দ্বিতীয়বারের মতো তারা এই শিরোপা জয় করলো।

এর আগে বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের মেগা ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা।

তবে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরুটা শুভ করতে পারেনি ইমরুলরা। সূচনালগ্নেই রুবেল হোসেনের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন ইনফর্ম এভিন লুইস।

পরে আনামুল হক বিজয় কে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন তামিম ইকবাল। ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলেন। ক্রিজে সেট হয়ে রীতিমতো তোপ দাগাতে শুরু করেন তারা।

এরপর ঢাকা ডায়নামাইটস এর ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান একে একে ফেরান এনামুল ও শামসুর রহমান কে ফিরিয়ে খেলায় ফেরান দলকে।

সাকিবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৩০ বলে ২ চারে ২৪ রান করেন তিনি। এর রেশ না কাটতেই ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটে কাটা পড়েন ফর্মে থাকা শামসুর রহমান।

তবে একপ্রান্তে তামিম শো চলেছেই। একের পর এক চার-ছক্কায় দর্শকদের মাতিয়ে রাখলেন শেষ পর্যন্ত। মাত্র ৩১ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ড্যাশিং ওপেনার। এরপর আরো রূদ্রমূর্তি ধারণ করেন। হয়ে ওঠেন আরো বিধ্বংসী। পরের পঞ্চাশ করেন মাত্র ১৯ বলে। সব মিলিয়ে মাত্র ৫০ বলে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। ৬১ বলে ১৪১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তামিম। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়ে কুমিল্লা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ঢাকা। শূন্য রানেই মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের অসাধারণ থ্রোতে রানআউটে ফিনিশ হন সুনিল নারাইন।

দ্বিতীয় উইকেটে রনি তালুকদারকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠেন উপুল থারাঙ্গা। একের পর এক বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারিতে দুরন্ত গতিতে ছুটতে থাকে ডায়নামাইটসরা।

তবে আচমকা থিসারা পেরেরার বলে আবু হায়দার রনির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা থারাঙ্গা।
ফেরার আগে ২৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৮ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন লংকান ওপেনার।

এদিন ও ব্যাটের মাধ্যমে দলের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি দলীয় অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ওয়াহাব রিয়াজের বলে তামিমকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

সেই জের না কাটতেই এনামুল হকের অসাধারণ থ্রোতে রানআউট হয়ে ফেরেন এবারের আসরে দূর্দান্ত খেলতে থাকা রনি। ফেরার আগে মাত্র ৩৮ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৬ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি।

রনি তালুকদারের উইকেট পতনের রেশ না কাটতেই পেরেরার দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন আন্দ্রে রাসেল। এতে চাপে পড়ে ডায়নামাইটসরা। এর মধ্যে রিয়াজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে কাইরন পোলার্ড ফিরলে চাপটা দ্বিগুণ হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে পারেননি শুভাগত হোম। সাইফের বলে পেরেরাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

বাকি সময়ে আর চাপ কাটিয়ে পারেনি ঢাকা। রিয়াজের বলে নুরুল হাসান ফিরলে জয়ের প্রহর গুনতে শুরু করে কুমিল্লা। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাইফের বলে মাহমুদুল হাসান ফিরলে জয়টা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটির। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৮২ রান তুলতে সক্ষম হয় ঢাকা। এতে ১৭ রানের বিজয়োল্লাসে মাতেন তামিমরা।

৩ উইকেট নিয়ে কুমিল্লা জয়ে বড় অবদান রাখেন ওয়াহাব রিয়াজ। ২টি করে উইকেট নেন সাইফ ও পেরেরা।

Share this post