ছাত্রলীগের হাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ৫৬ জনের পদত্যাগ

ছাত্রলীগের হাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ৫৬ জনের পদত্যাগ

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগে
একইসঙ্গে ৫৬ শিক্ষক বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে দুইজন রিজেন্ট বোর্ড সদস্য, চারজন ডিন, চারজন প্রভোস্ট, ১৪ জন বিভাগীয় চেয়ারম্যান,
সব হলের হাউজ টিউটর, সব সহকারী প্রক্টর রয়েছেন।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের চার নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায়
বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে তাৎক্ষণিক বিচার না পাওয়ায় আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ৫৬ জনের পদত্যাগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. তৌহিদুল ইসলামের কাছে জমা দেওয়া হয়।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন গণমাধ্যম কে বলেন,
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ফেল করা এক ছাত্রীকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ
সভাপতি ও তার বন্ধুরা মিলে জোর করে পরীক্ষায় বসায়।
এতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষকদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে ওই ছাত্রীর সমর্থকরা অশালীন আচরণ করে।
বিষয়টি শিক্ষক সমিতির জরুরি সভায় ভিসিকে জানানোর পরও কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায়
৫২ জন শিক্ষক তাদের বিভিন্ন পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এ ঘটনার ব্যাপারে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার বলেন-
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মহিউদ্দিন তাসনিন দেড় বছর ধরে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে।
কিন্তু মেয়েটি রাজি না হওয়ায় এর আগেও তাকে পরীক্ষায় ফেল করানো হয়েছে।
সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় তাকে ফেল করালে ছাত্রীটি তার পরীক্ষার খাতা রি-এক্সাম করানোর দাবি জানায়।
তবে এ বিষয়ে রাজি হননি ওই শিক্ষক ও ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন বলেন-
যদি দেড়-দুই বছর আগে কুপ্রস্তাব দেওয়ার কোনও ঘটনা ঘটে থাকতো তবে
অবশ্যই ওই ছাত্রী ওই সময়ই বিষয়টি লিখিত আকারে জানাতো।
পরীক্ষায় ফেল করার পর এটা প্রকাশ করতো না।
কোনও শিক্ষক ছাত্রীকে এমন কথা বলতে পারে বলে আমি মনে করি না।

এর আগে গত শনিবার দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ।
এ পরীক্ষায় এক ছাত্রী উন্নীত হতে পারেননি। তার ফলাফল ৪-এর মধ্যে ১.৯৮।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২.২৫ পেলে উন্নীত হিসেবে গণ্য করা হবে।
এদিকে পরীক্ষার ফলাফল একদিন আগে ঘোষণা করাকে অধ্যাদেশ বিরোধী উল্লেখ করে
ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার তার সহযোগীদের নিয়ে রবিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে
কোয়ান্টাম মেকানিক্স-১ পরীক্ষায় ওই ছাত্রীকে সিটে বসিয়ে দেয়।
এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বিভাগের কোনও অনুমোদন না থাকায় শিক্ষকরা এ বিষয়ে বাধা দিলে
ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার ওই বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন এবং
শিক্ষক মহিউদ্দিন তাসনিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং লাঞ্ছিত করে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
পাহারা দিয়ে ওই ছাত্রীর সম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ করায়।
পরীক্ষা শেষ করানোর পর সব শিক্ষার্থীকে ডেকে অর্ডিন্যান্স পরিবর্তনের জন্য মিছিল শুরু করে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো. আলাউদ্দিন বলেন-
বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Share this post