খালেদা জিয়ার প্যারালাইজড হওয়ার আশঙ্কা

খালেদা জিয়ার প্যারালাইজড হওয়ার আশঙ্কা

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দী অবস্থায় বা হাত ও পা
প্যারালাইজড হওয়ার আশঙ্কা করছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা।
তবে কারাগার হাসপাতালরে সহকারি সার্জন ডা: মাহমুদুল হাসান,
খালেদা জিয়ার বা পা বা হাত নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে তারা মনে করেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দলটির নেতা কর্মীদের উদ্বেগের মুখে কারা-কর্তৃপক্ষ
একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা অভিযোগ করেছেন, উন্নত চিকিৎসা না হওয়ায় খালেদা জিয়া স্বাভাবিক হাঁটাচলাও করতে পারছেন না।
তার বাম পা এবং হাত প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে বলেও তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তবে কারাগার হাসপাতালের সহকারি সার্জন ডা: মাহমুদুল হাসান তিনি দাবি করে বলেন,
পুরনো আর্থারাইটিস রোগের কারণেই খালদো জিয়ার হাতে পায়ে ব্যথা কখনও বাড়ে কখনও কমে।
বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানান।

ডা: হাসান আরও বলেন,“ওনার মূল সমস্যা হলো, উনি র্দীঘদিন ধরে আর্থারাইটিসে আক্রান্ত।
এবং ওনার দু‘টো হাঁটুতে মেটাল লাগানো আছে।
সৌদি আরব থেকে এবং ইংল্যান্ড থেকে এগুলো লাগানো হয়েছে ১৫ এবং ১৭ বছর আগে।”

তিনি বলেন, “মূলত আর্থারাইটিসের কারণে উনার শরীরের বাম দিকের সমস্যাটা একটু বেশি।
ব্যথা আছে, মাঝে মাঝে ফুলে যায়, এটাই ওনার সমস্যা। প্যারালাইজড হওয়ার মতো সমস্যা নয়।”

তিনি আরো বলেন,“ইতিপূর্বে ওনার জন্য বেশ কয়েকবার বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা-পত্র দিয়েছেন, সে অনুযায়ী তিনি ওষুধ খাচ্ছেন এবং
নিয়মিত ফিজিওথেরাপিও চলছে। প্রয়োজন হলে আমরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ডাকি, উনারাও এসে তাকে দেখে যান।”

অন্য দিকে সম্প্রতি যেসব আইনজীবী বিএনপি নেত্রীকে কারাগারে দেখে এসেছেন,
তাদের দেয়া তথ্য থেকে খালেদা জিয়ার বাম পা এবং হাত নিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ওই আইনজীবীদের একজন জয়নাল আবেদীন বলেছেন,
“ম্যাডাম যখন জেলখানায় যান, তখন হেঁটে হেঁটে গিয়েছেন। এরপর আমরা যতবারই তাকে দেখতে গিয়েছি,
উনি হেঁটে হেঁটে তার নির্ধারিত জায়গায় এসে আমাদের সাক্ষাৎ দিয়েছেন। কিন্তু এবার আমরা দেখলাম যে উনি বসতে পারছেন না।
বলতে গেলে উনি শরীরের বাম অংশ নাড়াতেই পারছেন না। এছাড়াও এবারই প্রথম তিনি অভিযোগ করলেন যে বাম চোখ দিয়ে দেখতে তার কষ্ট হচ্ছে।

Share this post