কথা রাখেনি কেউ?

কথা রাখেনি কেউ?

শুধু আশ্বাসই পেয়ে গেলেন সবার। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক ও বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান কিংবা রুবেল হোসেন বাদ যান নি কেউ!

আশ্বাস প্রাপ্ত মানুষটি হলেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় চামেলি খাতুন।

২১ দিন হলো ঢাকায় এসেছেন। কিন্তু প্রথম ২ দিন তাকে নিয়ে সরগরম ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রধানের কার্যালয়েও। দেশের গণমাধ্যম কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল তার গ্রামের বাড়িতে। বাদ যায়নি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালও।

বাকি ১৯ দিনের কি হলো?
হ্যাঁ বাকি ১৯ দিনই নিজের চিকিৎসার ব্যয়ভার চালাচ্ছেন নিজেই। চামেলীর একটাই আকুতি, আমার জন্য কিছু করেন। আমি এভাবে শেষ হতে চাই না আমার পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম মানুষটি যে আমি!

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আশ্বাস ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে খুব ঘটা করেই আনা হয় ঢাকায়। বলা হয়েছিল, তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বিসিবি নিবে। এতো আশ্বাস পাবার পর ঢাকায় এসে হতাশ চামেলী।

চামেলী বলেনঃ

প্রথম দুইদিন বাদে এই ১৯ দিন ধরে আমার চিকিৎসা খরচ আমিই বহন করছি। আমার খোঁজ তো কেউ নিচ্ছেনই না উল্টো আমি ফোন দিলে আমার ফোনও ধরছেন না। এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য যা কিছু করেছেন সেটা আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি এখন নির্বাচনের জন্য ব্যস্ত আছেন, তাই হয়তো আমার খোঁজ নিতে পারছেন না।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকাণ্ডে হতাশা প্রকাশ করে আরো বলেন -আমি হতাশ! যেই ক্রিকেট বোর্ডের জন্য আজকের এই অবস্থান তারাই এমন আচরণ করছেন।   গত কয়েকদিন বিসিবির প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে যোগাযোগেও ব্যর্থ হোন তিনি।

চামেলীর দাবি, বিসিবির প্রধান নির্বাহী তাঁর ফোন নম্বর ব্লক করে রেখেছেন। আমি খুব দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, উনি আমার ফোন নম্বর ব্ল্যাকলিস্টে ফেলে দিয়েছেন।

এছাড়াও জাতীয় দলের খেলোয়াড়   সাকিব , রুবেল  , মুস্তাফিজের  দেওয়া আশ্বাসের ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন – আশ্বাস দেওয়া পর্যন্ত ই তাদের পাশে থাকা।

চামেলীর চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান,  কোথায় চিকিৎসা করাবেন এসবেরও খোঁজ নিয়েছেন ইতোমধ্যে।

তিনি বলেন -আমাকে খুব দূরে যেতে হবে না ভাই। আমাদের দেশে এই সমস্যার জন্য চিকিৎসা না থাকলেও   ভারতের বেঙ্গালুরুতে খোঁজ নিয়েছি আমি। ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট ও  সেখানে যাবার জন্য ভিসাও করিয়েছি। এখন শুধু টাকার জন্য যেতে পারছি না।

সম্পূর্ণ চিকিৎসার জন্য কত টাকা খরচ হবে জানতে চাইলে পাঁচ লাখ টাকা লাগবে বলে জানান বাংলা নিউজ প্রতিনিধি কে ।

Share this post